ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এ সপ্তাহেই পুনরায় শুরু হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইসরাইল ও লেবানন ওয়াশিংটনে বিরল সরাসরি বৈঠকের পর আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত এখনো চলছে।
সমঝোতার আশা জোরদার হওয়ায় শেয়ারবাজারে উত্থান এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান এ পথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছিল, যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প মঙ্গলবার নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনায় অগ্রগতি না এলেও ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ পাকিস্তানে নতুন দফা আলোচনা হতে পারে।
বুধবার প্রচারিতব্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’।
পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসলামাবাদ দ্বিতীয় দফা আলোচনার আয়োজন করতে কাজ করছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর শুরু করেছেন।
এর মধ্যে ওয়াশিংটন হিজবুল্লাহ-ইসরাইল সংঘাত বন্ধে চাপ বাড়াচ্ছে, কারণ এ সংঘাত চলতে থাকলে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে।
ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবানন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যার জবাবে ইসরাইল স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালায়।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠক করেন, যা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হয়।
ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার বৈঠককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেন, আর লেবাননের প্রতিনিধি নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এটিকে ‘গঠনমূলক’ বললেও যুদ্ধবিরতির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘উভয় পক্ষ পারস্পরিক সম্মত সময় ও স্থানে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে।’
তবে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে ইসরাইলের উপস্থিতি এবং হিজবুল্লাহকে দুর্বল না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে অনীহা সমঝোতার পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
তেহরানের ওপর চাপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা বারবার থেমে গেলেও ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে তার বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের অবরোধ ‘সম্পূর্ণভাবে কার্যকর’ হয়েছে এবং সমুদ্রপথে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে মঙ্গলবারের সামুদ্রিক তথ্য বলছে, কিছু জাহাজ এখনো ইরানের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে ইরানের আয় কমাতে চান, অন্যদিকে দেশটির প্রধান তেল ক্রেতা চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান, যাতে তারা তেহরানকে প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য করে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বুধবার রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়।
‘গ্র্যান্ড বার্গেন’
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে একটি ‘গ্র্যান্ড বার্গেন’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো চুক্তির শর্ত হবে ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এ দাবি সমর্থন করেনি।
তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে চেয়েছিল। এর বিপরীতে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়, যা ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র না রাখে, তবে তাকে সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করা হবে।
‘এটাই প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ট্রাম্পীয় ‘গ্র্যান্ড বার্গেন’ আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব,’ বলেন তিনি
বিশেষ প্রতিনিধি, Md.Ikhtiar Uddin Khan।।